বাংলাদেশের কবি কাজী মাসুদ -এর একটি কবিতা “কৃষ্ণের রাধা সাধনা”


কৃষ্ণের রাধা সাধনা

    কাজী মাসুদ

(যশোর সদর, যশোর বাংলাদেশ)

সে এক স্নিগ্ধ করুণ কাহিনী!
যবে তুমি ছিলে মোর হৃদয় হরিণি;
জগত পেরিয়ে অতি-অতিদুর পানে,
স্বর্গের সুরভিত সেই ফুলেল কুঞ্জবনে।
মহেশ্বরের মহাপ্রেমের অবগুণ্ঠনে,
মোরা ছিলেম মিশে এক হৃদয় গহীনে।
অবিরাম চলিত যুগল হৃদয় মন্থন,
তা দেখিয়া জগতপুঞ্জ হইতো ঈর্ষায়ন।
যবে মোরা ভবের ঘরে খুলিলাম বাতায়ন,
কষ্ট পেলো জগত হরি –
সাঙ্গ করে পূজার সাধন।
নভঃলোকের কক্ষচ্যুতে অসীম দুই প্রান্তে,
মোরা হারালাম লোকান্তরে-
অন্ধকার অনন্তে!
তোমায় পেতে স্মরি চড়ি
মহাকালের খেয়ায়,
শুরু হলো পূজার সাধন
বিক্ষত মোর হিয়ায়।
জন্ম- জন্মান্তরে তোমায়-
খুঁজে -খুঁজে ফিরি,
পূজার ফুলে অশ্রুজলে
সদয় হলেন হরি।
জনম ঘুরে সাধন যোগে
এলাম আবার ভবে,
যদি এবার পাই তোমাকে
প্রেমাঞ্জলি দিব তবে।
খুঁজি তোমায় সিন্ধু তটে
নীল সাগরের পাড়ে,
প্রশান্তে ঢেউ আঘাত হানে
হৃদয় ভাঙে গড়ে।
অতলান্তে ব্যথিত হিয়া আমার
সাহারায় বাঁধে বাসা,
মরীচিকার ছলে বালুতটে ভাঙে
হায়রে ভালবাসা!
ভালবাসা কহে- হতাস কিসে?
আমি চির জাগরূক,
স্রস্টা-রে আমি প্রকাশি নমেঃ
মানুষ তবে ভাবুক।
আমার নাইকো ধর্ম বর্ণ
আমি চির অম্লান,
আমায় বিভাজে যে কাপুরুষ
সে করে বিষপান।
মানুষের তরে সদা ভজি আমি
স্রষ্টারে মহীয়ান,
তাইতো জগত জাগিছে সদা
বিধাতায় গড়িয়ান।
মানুষ ভজিলে স্রষ্টা লভিবে
ভালবাসা অফুরান,
জাতি ধর্ম বর্ণ শেষে
ইহাই কুরান পুরাণ।
এমন আশ্বাসে পরম বিশ্বাসে
ধরায় নামিল শশি,
নমিঃ আবার প্রেমেরে আমি
শয়নে স্বপনে বসি।
গোলাপ বকুল হাসনা হেনা’র
মিষ্টি সৌরভে,
খুঁজেছি তোমায় জোছনা ভেজা
পূর্ণিমা অনুভবে।
ছুটেছি অনেক প্রজাপতি পানে
পাখির কলতানে,
লাল ঘুড়ি নেশায় তোমায় পাবো আশায়
কৈশোর অবসানে!
ব্যথিত কৈশোর কালের স্রোতে
ধাবিল যৌবনে,
এবার বুঝি পাবো মূর্তে
নিষ্পাপ মৌবনে।
বহু জনম শেষে মৃদু পায়ে এসে
ধরায় দিলে ধরা,
পূর্ণ হলো মোর সাধন ভজন
পূণ্য হৃদয় ঘড়া।
সকল জনম সফল হলো
হরি -কীর্তন বলি,
হৃদয় নীড়ে দিলাম তোমায়
অশ্রু পুষ্পাঞ্জলি।

……..…………………….

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

Leave a Reply

Developed by